• সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১১ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গাইবান্ধায় ২৪ ঘন্টায় নতুন কোন করোনা আক্রান্ত নেই

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

গাইবান্ধায় গত ২২ মার্চ আমেরিকা প্রবাসী মা ও ছেলের দেহে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর জেলায় করোনা শনাক্তের ২১০তম দিনে ১৭ অক্টোবর নতুন কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। আগের দিন ৪ জনের করোনা পজিটিভ হলেও শনিবার আক্রান্তহীন দিন কাটালো গাইবান্ধা।

গাইবান্ধা জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২০৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ রোগ থেকে জেলার সাত উপজেলায় সুস্থ্য হয়েছেন ১ হাজার ১৪৭ জন। গাইবান্ধায় করোনা শনাক্ত ও মোট আক্রান্তের বিবেচনায় সুস্থ্যতার হার ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।

প্রথম শনাক্তের ২১০তম দিনেও জেলায় করোনার সংক্রমণের লাগাম পুরোপুরি টেনে ধরা না গেলেও সুস্থতার হার বাড়ছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় মোট ১ হাজার ২০৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১ হাজার ১৪৭ জন মানুষ। সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৪ জন। এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ১৬৫ শতাংশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের সবশেষ পরিসংখ্যানে জানানো হয়, কোভিড-১৯ রোগ থেকে গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় সুস্ত্য হয়ে ওঠা ১ হাজার ১৪৭ জনের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ৪২০ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৩১৬ জন, সাদুল্লাপুরে ৯৪ জন, পলাশবড়ীতে ৯৮ জন, সাঘাটায় ৭৬ জন, সুন্দরগঞ্জে ৭৯ জন ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এ ছাড়া সংখ্যাধিক্য অনুযায়ি শুক্রবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গাইবান্ধা সদরে সবচেয়ে বেশি ৪৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৩৩৬ জন)। এর পরের অবস্থানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পাওয়া গেছে ৩২৫ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ১৭৮ জন), পলাশবাড়ী উপজেলায় ১০৯ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৬৫ জন), সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৯৯ জন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৮১ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৩৪ জন), সাঘাটা উপজেলায় ৭৭ জন ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৭২ জন।

গাইবান্ধায় বর্তমানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৪৪ জনের মধ্যে ১৯ জন গাইবান্ধা সদরে, পলাশবাড়ীতে ৭ জন, ফুলছড়িতে ৮ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৫ জন, সাদুল্লাপুরে ৩ জন, সুন্দরগঞ্জে ১ জন ও সাঘাটায় ১ জন রয়েছেন।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৪ জন করোনা আক্রান্তরোগী মারা গেছেন। এরমধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪ জন, সদরে ৩ জন, সাদুল্লাপুরে ২ জন, পলাশবাড়ীতে ৪ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ে স্থানীয়রা অনেকটাই অসচেতন। চলাচলে অসতর্কতা এবং সামাজিক দূরত্ব ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি কেউ সঠিকভাবে মেনে চলছেন না। সাধারণ মানুষ হাঁটবাজার, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে অবাধে চলাচল করছেন। চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কমেছে প্রশাসনের নজরদারিও। এতে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম দেখা দেওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা