• শনিবার   ০৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

৯৬

কিডনির পাথর উধাও হবে আম পাতায়!

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২০  

ফলের রাজা আমের দেখা মেলে এই গ্রীষ্মকালেই। আমে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ রয়েছে। তবে জানেন কি? শুধু আম নয় আমের পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ওষুধি গুণ। প্রাচীনকাল থেকেই নানা রোগের দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আম পাতা।

এই পাতায় রয়েছে বিভিন্ন খনিজ উপাদান, এনজাইম, ভিটামিন এ, বি ও সি। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই পাতায় মেঞ্জিফিরিন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদানও থাকে। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আম পাতার ব্যবহার ও বিভিন্ন রোগ নিরাময় সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। এবার তবে জেনে নিন আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাসমূহ-

> ডায়াবেটিস সমস্যার সমাধানে আমপাতা দুর্দান্ত কাজ করে। কারণ এতে রয়েছে টেনিনস এবং অ্যান্থোসায়ানিন নামে দুটি উপাদান। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন আম পাতা দিয়ে তৈরি চা পান করলে উপকার মিলবে। 

 

আম পাতার চা

আম পাতার চা

> উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। জানেন কি? আম পাতা আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে। এ পাতায় হাইপোট্যান্সিভ উপাদান আছে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন এক কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে। ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। 

 

> অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের কারণেই ইউরিক এসিডের সমস্যা বেড়ে থাকে। আর এই গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপকারী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে হলুদ রং না হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

> কিডনি ও গল ব্লাডারের পথ দূর করতে আম পাতা কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এজন্য আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়f করে নিন। তারপর সেই গুঁড়f এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান। তাহলেই প্রস্রাবের সঙ্গে কিডনিতে জমে থাকা পাথর বেরিয়ে যাবে।

> হেঁচকি ওঠা ও গলা ব্যথার সমস্যায় আমরা যখন তখন পড়তে পারি। এক্ষেত্রে দ্রুত স্বস্তি দেবে আম পাতা। হেঁচকি ওঠার সময় কয়েকটি আম পাতা পুড়িয়ে নিঃশ্বাসের সঙ্গে ধোঁয়া নিন। এতে হেঁচকি ওঠা কমবে। সেই সঙ্গে গলা ব্যথা দূর করতেও আম পাতা পুড়িয়ে সেই ধোঁয়া নিতে থাকুন। তাহলেই দেখবেন গলার ব্যথা একেবারে কমে গেছে।

 

আম পাতা এভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন

আম পাতা এভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন

> কোথাও পুড়ে গেলে আম পাতার সাহায্যে সেই ক্ষত স্থান সারানো যায়। এক্ষেত্রে কয়েকটি আম পাতা পুড়িয়ে তার ছাই পোড়া স্থানে ব্যবহার করতে হবে।

 

> অনেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন। প্রতিদিন আম পাতা দিয়ে তৈরি চা খেলে প্রায় সব ধরনের শ্বাসজনিত সমস্যা দূর হয়। যারা ব্রঙ্কাইটিস এবং অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে আম পাতা এক গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াই। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে পরিমাণ মতো পানিতে অল্প করে আম পাতা দিয়ে সেই পানি ফুটিয়ে নিয়ে পান করবেন। তাহলেই দেখবেন কষ্ট কমতে শুরু করেছে।

> পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে কয়েকটি পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই পানি ও পাতা সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয় পান করুন। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে আম পাতা।

অবশ্যই মনে রাখবেন, আমের কচি পাতা ব্যবহার করতে হবে সব ধরনের চিকিৎসায়। যেহেতু আম গাছের কচি পাতা সারা বছর পাওয়া যায় না, তাই পাতাগুলো শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আম পাতা শারীরিক বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আপনাকে সুস্থ রাখবে। তবে যাদের সহ্য হয় না, তাদের আম পাতা এড়ানো উচিত।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর