• মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৭

  • || ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনার মধ্যেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বড় প্রবৃদ্ধি

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২০  

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় আমানত ও ঋণ বিতরণে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ এবং ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। এ দুটি সূচকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার আরো বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং মূলত কোনো শাখা না খুলেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা দেয়ার একটি পদ্ধতি। বর্তমানে এজেন্ট আউটলেটের সংখ্যার পাশাপাশি গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে ২৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১০ হাজার ১৬৩টি মাস্টার এজেন্টের আওতায় ১৪ হাজার ১৬টি আউটলেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৮২ লাখ ২১ হাজার ৮৯৩ জন গ্রাহক হিসাব খুলেছে। এসব হিসাবে জমা করা অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত গ্রাহক ছিল ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০ জন এবং আমানত স্থিতি ছিল ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আট লাখ ৬৩ হাজার ৭০৩ জন বা ১১.৭৪ শতাংশ গ্রাহক বেড়েছে এবং আমানত স্থিতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার ৮২০ কোটি টাকা বা ২৭.৬০ শতাংশ। আর গত এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহক ও আমানত বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১০৭ শতাংশ ও ১১১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গত তিন মাসের ব্যবধানে নতুন এজেন্ট বেড়েছে প্রায় ১৫.৯৬ শতাংশ এবং আউটলেট বেড়েছে ১২.৫৯ শতাংশ।

এদিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শুধু হিসাব খোলা ও আমানত সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আয় করায় সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসেই বেড়েছে প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা বা ৫০.৮৫ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৮১ কোটি টাকা বা ২৫৫.৪৫ শতাংশ।

এজেন্ট ব্যাংকিং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। গত তিন মাসে রেমিট্যান্স বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩.৮৪ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি ২২১ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রথম কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংক এশিয়া। বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শীর্ষেও রয়েছে এ ব্যাংকটি।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা