• শনিবার   ১২ জুন ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮

  • || ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

করোনার ভালো চিকিৎসা দেশে রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২১  

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনার চিকিৎসা সব দেশে একই রকম এবং আমাদের দেশের চিকিৎসা অনেক ভালো। তাই করোনার চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। 

মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট হতে ২০২০-২১ অর্থবছরের সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা নজিরবিহীন। দেশের স্বার্থে, বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়া ও রাষ্ট্রের বিকাশের স্বার্থে এটি প্রয়োজন। সে বিশ্বাস নিয়েই আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, যে সমস্ত সাংবাদিক আমাদের বিরোধীতা ও সমালোচনা করেন, তাদের জন্যও এ ট্রাস্টের সহায়তা উন্মুক্ত। যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন, তিনি যদি দুস্থ হন, আমাদের নীতিমালার মধ্যে পড়েন, এ সহায়তা তার জন্যও উন্মুক্ত এবং এটি আমরা বাস্তবায়ন করেছি।

ড. হাছান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়, কেউ কেউ বিবৃতি দেয় আবার কেউ কেউ জাতিসংঘের কাছে চিঠি লেখে। সেই চিঠি লেখা আর বিএনপির বিবৃতি আসলে একসূত্রে গাঁথা ও এগুলো বৃহত্তর রাজনীতির একটা অংশ ছাড়া কিছু নয়।

বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়ার করোনা চিকিৎসা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। আমি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। করোনাকে পরাভূত করে তিনি আবার সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান, এটিই মহান স্রষ্টার কাছে আমার প্রার্থনা। করোনার চিকিৎসা সব দেশে একই রকম এবং আমাদের দেশের চিকিৎসা অনেক ভালো। তাই করোনার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার বক্তৃতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের একাগ্রতার কথা তুলে ধরেন। 

এদিন সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩০ জনের হাতে চেক হস্তান্তর করেন অতিথিরা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। 

২০১৪ সালের ৮ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৪’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯৬ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ২৩১ জনকে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ৩০৩ জনকে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ৩৩৯ জনকে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ১৯৯ জনকে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাকালীন বিশেষ অনুদান হিসেবে ৩ হাজার ৩৩৫ জনকে ১০ হাজার করে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। সবমিলে গত অর্থবছর পর্যন্ত ট্রাস্ট ৪ হাজার ৬৪০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারকে ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে সিডমানি হিসেবে জমা হয়েছে ৪৩ কোটি ৮ লাখ ২৭ হাজার ৮১ টাকা। এছাড়াও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাস্টকে ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন।  

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা