• শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৫ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনায় বন্ধ স্কুল, বাড়ির পাশে কিশোরী কমলার পেঁপে চাষে সফলতা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০  

করোনাকালে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। এই অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই উদ্যোক্তা হিসেবে হাতেখড়ি। কেউ সময়টাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন কেউ আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন। তেমনি এক উদ্যোক্তা কিশোরী কমলা।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মধ্য উড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের কন্যা কমলা আক্তার। তের বছর বয়সী কমলা স্থানীয় একটি স্কুলের ক্লাস সেভেনের শিক্ষার্থী। করোনায় স্কুল বন্ধ হওয়ায় অবসর সময় কাজে লাগাতে, সে তার বাড়ির পাশের পতিত জায়গায় গড়ে তোলে পেঁপে বাগান।

গত মধ্য মার্চে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল। এরপর কমলার সময় কাটে বাড়িতে পড়াশুনা আর স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা কিশোরীদের বিনোদন ও শেখার কেন্দ্র মধ্য উড়িয়া সংলাপ সেন্টারে। প্রতিদিন এখানে এসে গ্রামের অন্য সমবয়সী কিশোরীদের সাথে শিক্ষনীয় আড্ডায় সময় পার করে সে।

এখান থেকেই কমলা ধারনা পায় পড়ালেখার পাশাপাশি কিভাবে পরিবারে আয়মূখী কাজে সহযোগিতা করা যায়। সংলাপ সেন্টার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় ৪টি পেঁপের গাছ রোপন করে। স্থানীয় কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার-কৃষি সেবাদানকারী একজনের কাছে অধিক ফলনে পরামর্শ নেয়। সেবা ও নিয়মিত পরিচর্যায় পেঁপে গাছে বেশ ভাল ফলন পায় কমলা।

বন্যা ও করোনার মধ্যে পরিবারের চার ভাই-বোন ও বাবা-মাসহ সবার চাহিদা মিটিয়ে ইতোমধ্যে সে তার উৎপাদিত ৩শ’ ২০ কেজি পেঁপে সবজি হিসাবে বাজারে বিক্রি করে করোনাকালে ৮ হাজার টাকা আয় করে পরিবারে সহযোগিতা করেছে। এখনও তার গাছে যে পরিমান পেঁপে আছে, তাতে আরো অন্ততপক্ষে ১০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবে আশা করছে কমলা।

কমলা আক্তারের এমন উদ্যোগে বেশ খুশি পরিবারের অন্য সদস্যরাও। আর করোনা সংকটে ক্ষুদ্র উদ্যোগে অর্থ উর্পাজনে বেশ সাঁড়া পড়ে কমলার সহপাঠীদের মধ্যেও।

কমলার বাবা আব্দুল কুদ্দুস জানান, ‘মেয়ের এমন উদ্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। বাড়ির পাশে পড়ে থাকা জায়গা কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তা কমলার কাছ থেকেই শিখলাম’।

উল্লেখ্য, কিশোরীদের জীবনমানের উন্নয়নে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বেশ কয়েকটি কর্মসূচি গ্রহন করে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোরীরা উপকৃত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশেষ করে নারীসমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে এবং পারিবারিক বৈষম্যের শিকার কিশোরীদের সমাজের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে তুলেছে কিশোরীদের বিনোদন ও শেখার কেন্দ্র ‘সংলাপ সেন্টার’। সিডস প্রকল্পের আওতায় জিইউকের বাস্তবায়নে এসব সংলাপ সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা