• রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৭

  • || ০৯ সফর ১৪৪২

২১

করোনাকালে শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২০  

করেনাভাইরাস বিদায় হওয়ার লক্ষণ নেই। বরং দিনদিন এটি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামারীর এই সময়টি সবার জন্য অনেকটা চাপের। এই সময়ে যেসব মা বুকের দুধ পান করান এবং তাদের এবং শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চললেই নিরাপদে থাকা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার শিশুর পক্ষে সবচেয়ে নিরাপদ কী তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মহামারী চলাকালীন শিশুকে বুকের দুধ পান করানো উচিত। শিশুর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত একটানা বুকের দুধ পান করালে তা তাকে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করে। এখনও পর্যন্ত, বুকের দুধের মাধ্যমে অ্যাক্টিভ করোনাভাইরাস (যা সংক্রমণ ঘটাতে পারে) সঞ্চারিত হয়নি।

বুকের দুধ পান করালে তা নবজাতককে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে। সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে স্তন্যপান করানো কার্যকরী। এটি মায়ের কাছ থেকে সরাসরি অ্যান্টিবডি স্থানান্তর করে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে। নিরাপদে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মা ও শিশুর আলাদা কক্ষ থাকা জরুরি।

এই মহামারী চলাকালীন নতুন এবং হবু মায়েদের সাধারণ প্রশ্নের কয়েকটি উত্তর এখানে রয়েছে:

মহামারীকালীন স্তন্যপান করা কি নিরাপদ?
একদমই নিরাপদ। বুকের দুধ অ্যান্টিবডি সরবরাহ করে যা শিশুদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক। এটি শিশুকে অনেক সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। মায়ের দুধের অ্যান্টিবডির মাধ্যমে শিশু করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

আপনার শিশু যদি ছয় মাস বা তার কম বয়সী হয় তবে তাকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। আপনার শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হয়ে গেলে, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর পরিপূরকযুক্ত খাবারের সাথে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান।

বুকের দুধের মাধ্যমে কি করোনাভাইরাস ছড়ায়?
যদিও গবেষকরা করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দেশে বুকের দুধের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এখনও পর্যন্ত বুকের দুধের মাধ্যমে সক্রিয় করোনাভাইরাস (সংক্রমণ ঘটাতে পারে) সঞ্চারিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মা করোনায় আক্রান্ত হলে কি বুকের দুধ পান করাতে পারবে?
হ্যাঁ, যথাযথ সতর্কতার সাথে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান। এই সতর্কতার মধ্যে রয়েছে মাস্ক পরা, সাবান এবং পানি দিয়ে মায়ের হাত ধোয়া, শিশুর স্পর্শ করার আগে এবং পরে হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং আপনি যেসব জিনিস স্পর্শ করেছেন সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা।

আপনার শিশুকে রক্ষা করতে যা করবেন:

১. টিস্যুতে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দেয়াএবং এটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
২. আপনি যে জিনিসগুলো স্পর্শ করেছেন সেগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা।
৩. যেখানে প্রয়োজন সেখানে মাস্ক পরা।
৪. শিশুকে আপনার বিছানা থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে বা যদি সম্ভব হয় পাশের ঘরে রেখে দেয়া।
৫. স্তন্যপান না করার সময় একজন সুস্থ আত্মীয়ের দ্বারা নিয়মিত শিশুর যত্ন নেয়া।

শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর মতো সুস্থ না থাকলে করণীয়:
আপনি যদি আপনার শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে খুব অসুস্থ বোধ করেন তবে আপনার শিশুকে নিরাপদে বুকের দুধ পান করানোর জন্য অন্যান্য উপায় বের করার চেষ্টা করুন। বুকের দুধ বের করে একটি চামচের মাধ্যমে শিশুকে পান করাতে পারেন। দুধ প্রকাশ করার চেষ্টা করুন এবং একটি পরিষ্কার প্যালাডিয়া বা চামচ মাধ্যমে আপনার শিশুকে খাওয়ান। দুধের উৎপাদন বজায় রাখার জন্য শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু অসুস্থ হলে কি বুকের দুধ পান করানো যাবে?

আপনার শিশু অসুস্থ হলে তাকে বুকের দুধ পান করানো চালিয়ে যান। করোনাভাইরাস বা অন্য কোনো সংক্রমণ হোক না কেন, তাকে বুকের দুধ পান করানো অব্যাহত রাখা জরুরি। বুকের দুধ পান করালে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং মায়ের অ্যান্টিবডি তাকে বুকের দুধ খাওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণে লড়াই করতে সহায়তা করে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর