• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২৫

করোনা যুদ্ধে শেখ হাসিনার অনবদ্য নেতৃত্ব

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২০  

বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপে ধারণ করলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাতে যদি কিছু দুর্বলতা থাকে সেটা শুধুমাত্রই ওই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ভুলের খেসারত।

যা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন দাবি করছে, শঙ্কা থাকা স্বত্ত্বেও বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে করোনার লাগাম টেনে ধরতে পেরেছে সেগুলোর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম।

বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মান, তাইওয়ান, আইসল্যান্ড , নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কথা বলা হয়েছে ম্যাগাজিনটিতে। সেখানে আরো বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা এখনো কার্যকর করতে পারেনি যুক্তরাজ্য। ম্যাগাজিনের তথ্য, প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে।

সেখানে দুর্যোগ কোন নতুন ঘটনা নয়। আর এই করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি তিনি (শেখ হাসিনা)। তড়িৎ এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম (উই ফোরাম) পুরো বিষয়টিকে ‘প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে।

তার নেতৃত্বেই সরকারি চাকরিজীবী থেকে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক, গার্মেন্টস কারখানা থেকে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প, জাহাজ শ্রমিক থেকে অসহায় দিনমজুর দান-প্রণোদনা থেকে বিরত রাখেননি কাউকেই।

ভয়াবহ সঙ্কট মোকাবিলায় তড়িৎ গতিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্স। যাদের দেশের বিভিন্ন কভিট-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে পদায়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এছাড়াও ৩৯তম বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে দুই হাজার চিকিৎসককে সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় যে চারটি বড় দেশ সফলভাবে কভিড-১৯ মোকাবিলা করছে, এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। অর্থনীতি, রাজনীতিসহ নানাদিক থেকে শক্তিশালী হওয়া স্বত্ত্বেও মৃত্যুর হার এখনও বেড়েই চলেছে ভারত ও পাকিস্তানে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি, চিকিৎসার অভাবে জনগণ সাধারণ চিকিৎসা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই কোভিড-১৯ ব্যতিত অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি হাসাপাতালগুলোতে গেলে চিকিৎসা পাচ্ছে না।

এ ধরনের অনেক রোগী চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। এ দায় কার? এজন্য এই মুহুর্তে উচিত, নামি-দামি প্রত্যেকটি বেসরকারি হাসপাতালে যারা কভিড-১৯ ও যারা কোভিড-১৯ নন; তাদের জন্য পৃথক পৃথকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তা না হলে স্বাস্থ্যখাতের প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অবিশ্বাস্য জন্মাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক চিকিৎসা খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা স্বত্ত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ডের জন্য তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সেটি হতে পারে না।

স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও সদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের মত দেশ যখন বেসরকারি খাতের কর্মীদের যথাক্রমে ৮০% ও ৬০% ভাগ বেতন প্রদানের কথা জানিয়েছেন; বাংলাদেশ তখন আপৎকালীন ৫ হাজার কোটি বরাদ্দের মাধ্যমে সব গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ১০০% দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর আরো বেশ কয়েকটি প্যাকেজে মোট ১ লাখ কোটি টাকা প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার, যা মোট জিডিপির প্রায় কয়েক শতাংশ। এছাড়াও করোনা-কালে মানুষের জীবনযাত্রা ঠিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি করণীয় সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাংলাদেশে তো বটেই, তৃতীয় বিশ্বের জন্যও বড় উদাহরণ হয়েছে।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত বড় বড় সিদ্ধান্ত দ্রুতগতিতে নিয়েছেন, তা পৃথিবীর আর কোন কোন রাষ্ট্র নিয়েছে, তার গবেষণার বিষয়। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবি রাখে।আক্রান্তের পরপরই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবি তোলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন অনেকে।

অনশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দায়ভার ও সুপারিশ ইস্যুত শিক্ষা ও  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরস্পর-পরস্পরকে দোষ চাপালেও সময় নেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ১৮ মার্চ দেশের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। যা আজ অবধি চলছে। ধারণা করি তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ওই সিদ্ধান্ত না জানালে আজ হয়তো শিক্ষিত সমাজে কমিউনিটি স্প্রেড ব্যাপার হারে বেড়ে যেত, আক্রান্তে যোগ হত শিক্ষার্থীদের নামের বড় একটি তালিকা। এই বিবেচনায় বলাই যায়, ভালো আছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

এন-৯৫ ও পিপিই নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে কেলেঙ্কারি হয়েছে; তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দপ্তর থেকে এ সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঠিকই একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যেই আয়ের পথ বন্ধ হওয়া মানুষগুলোকে সরাসরি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দুই কোটি মানুষকে (৫০ লাখ পরিবার; পরিবার প্রতি চারজন) সরাসরি নগদ টাকা দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে।

যে সহায়তার আওতায় প্রতি পরিবার নগদ দুই হাজার ৪০০ টাকা করে পাবেন। এছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার দ্বারা স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি দেয়া হচ্ছে। গত ১৪ মে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে উল্লেখ্য যে, টাকা বন্টনের পুরো এই বিষয়টি কোনো মন্ত্রণালয় কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া হয়নি; বরং খোদ তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ও তাঁর কার্যালয়।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্যও ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রাণোদনার ব্যবস্থা হয়েছে; বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিতের। দিনমজুর, রিক্সা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষের জন্য ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চোখ এড়ায়নি শহর-বন্দর ও গ্রামে ওঠা হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসাগুলোয়। এরমধ্যেপবিত্র রমজানের ঈদ উপলক্ষে দেশের ৬ হাজার ৯৭০টি কওমি মাদরাসায় দুই দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে সরকার।

প্রতিটা খাতে ছিলো প্রধানমন্ত্রীর নজড়। জীবন জীবিকা পাশাপাশি চালিয়েই তিনি করোনা মোকাবিলা করছেন। আর এজন্যই বাংলাদেশ এখনো অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়েনি।

জনগনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৭৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- নদীবেষ্টিত জেলাসমূহে নৌ-এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে।

- খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, জমি পতিত না রেখে অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে।

- যে সকল চিকিৎসক ও নার্স কোভিড-১৯ প্রতিরোধে শুরু থেকে কাজ করছে; তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে; তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

- জীবনে চলার জন্য কাজ করতে হবে; তবে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করতে হবে।

- খাদ্য উৎপাদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারো যেন একখন্ড জমি অন্যুৎপাদিত না থাকে।

- গাজীপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালটিকে কোভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

- সুরক্ষা সামগ্রী যারা সরবরাহ করে তারা সঠিকভাবে জিনিসটি দিচ্ছে কিনা; তা যাচাই করে দেখতে হবে। বক্সের ভিতরে কি দেয়া আছে; তা পরিক্ষা করে নিতে হবে।

- দুধ ফেলে না দিয়ে কাউকে দিয়ে দিন; আপনার প্রতিবেশী কিংবা দরিদ্র মানুষকে দিন।

- প্রতিটি জেলায় আইসিইউ-এর ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

- কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন; এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

- গণমাধ্যম কর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন; এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর