সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

৫০৯

এস. এম. খাদেমুল ইসলাম খুদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০১৮  

গাইবান্ধার যুব রাজনীতিতে আলোচিত একটি নাম এস. এম. খাদেমুল ইসলাম খুদি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-০৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের (ইনু) মনোনিত প্রার্থী। তারুণ্যের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত এই তরুণ জননেতা নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা আর সাধনার বলে ইতিমধ্যেই জেলার সাধারণ জনগণের মধ্যে পরিচিতি আর ভালোবাসার এক বিশাল জায়গা করে নিয়েছেন। ইতোপুর্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে জেলায় কাজ করেছেন নিরলসভাবে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের ৪৮৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্য থেকে বেস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান অফ দ্যা ইয়ার ২০১২ নির্বাচিত হয়েছেন। পেয়েছেন -সর্ভিস ইনোভেশন এওয়াার্ড ২০১২

এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) গাইবান্ধা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সদস্য পদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে তিনি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সকল ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করেন ছাত্র সংসদের নির্বাচন। ইংরেজীতে অনার্স পড়য়াা অবস্থায় ২০০২ সালের জানুয়ারী গাইবান্ধা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের ঐক্য প্যানেল, ছাত্রফ্রট, ছাত্রসমাজ এবং ছাত্রইউনিয়নের প্যানেলকে পেছনে ফেলে ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। ছাত্রদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপোষহীন।

কলেজে পড়া অবস্থায় ২০০৩ সালে আসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। গ্রামের মানুষ একরকম জোর করেই তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দাঁড় করিয়ে দেন। মাত্র মাসের ওয়ার্কে তরুণ এই ছাত্রনেতা ২০০৩ সালের ১লা মার্চ নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সাদুল্লাপুর উপজেলার নং ফরিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।  তিনি জনপ্রিয় ছাত্রনেতা থেকে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় জননেতা। 

সার্বিক কর্মকান্ড মূল্যায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জেলার ৮২ জন চেয়ারম্যানের মধ্য থেকে ২০০৪-২০০৫ এবং ২০০৫-২০০৬ অর্থবৎসরে তরুণ এই চেয়ারম্যানকে পরপর দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। ভূষিত করেন স্থানীয় সরকার স্বর্ণপদকে।

ভালো কাজের মূল্যায়ন হওয়ায় তিনি আরও গতি নতুন প্রাণ শক্তিতে জ্বলে ওঠেন। কাজের স্বীকৃতি তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা- (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসন থেকে এমপি পদে ট্রাক প্রতিক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ডাক দেন। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সে পথে আর সামনে এগিয়ে যাওয়ায় হয়নি।

২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী আসে ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই বার তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ পদত্যাগ করে অংশ নেন উপজেলা নির্বাচনে এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সাদুল্লাপুরকে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মডেল উপজেলা পরিষদে রুপান্তরিত করার স্বপ্ন তাঁকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে রাত দিন খেটে তৈরী করেন দেশের সর্বপ্রথম তথ্যবহুল উপজেলা ওয়েবসাইট দেশের প্রথম উপজেলা পরিষদ তথ্য সেবা কেন্দ্র  চালু করেন সাদুল্লাপুরে। এছড়াও তৈরী করেন দেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ ওয়েবসাইট। আর এর মাঝেই নজর কাড়েন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিতীনির্ধারকদের। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়য়ে ইউএনডিপি অর্থায়নে পরিচালিত এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কমিউনিটি সার্ভিস ফেসিলেটর হিসেবে ২০১১ সালের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সদস্য পদ লাভ করেন জাতীয় ওয়েবসাইট কমিটি স্থানীয় সরকারের মনোগ্রাম নির্বাচন কমিটির। -সার্ভিসে অসামান্য অবদানের জন্য বেস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান অফ দ্যা ইয়ার ২০১২ নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেন -সর্ভিস ইনোভেশন এওয়ার্ড ২০১২ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পরামর্শে গাইবান্ধার প্রথম অনলাইন নিউজপেপার আলোকিত গাইবান্ধা যাত্রা শুরু হয়।

সাদুল্লাপুর অডিটরিয়ম, হলরুমসহ পুরো উপজেলা ক্যাম্পাস মেরামত আধুনিকায়ন, ঘেঘার বাজার টু ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক, মীরপুর টু ছান্দিয়াপুর সড়ক, পাকা করণ সংস্কার। মীরপুর, বৈষ্ণমদাশ, রসুলপুর ব্রীজ নির্মাণ। সাদুল্লাপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বোল্লা তোরণ সংস্কার বিভিন্ন বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির শশ্মান ঘাট, টয়লেট নির্মাণ, ধাপেরহাট মীরপুরে সীমানা ফলক নির্মাণ, কামারপাড়া ব্রীজের আটকে থাকা কাজ সচল করণ ছাড়াও বর্তমানে উপজেলার সমস্ত প্রয়োজনীয়  টেলিফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর, -মেইল এড্রেস, ওয়েব সাইট সম্বলিত একটি মিডিয়া গাইড প্রাকাশের কাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় সরকার বিষয়ক বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০০৭ সালে চীন সফর করেন।

২০১১ সালে দ্যা এসোসিয়েশন ফর ওভারসিস টেকনলজিক্যাল স্কলারশিপ (অঙঞঝ) টোকিও জাপানের আমন্ত্রণে দ্যা আইসিটি ওয়ার্কসপ অন গভার্নেন্স ফর বাংলাদেশ শীর্ষক এক আন-র্জাতিক ওয়ার্কসপে অংশ গ্রহণ করেন।

জাপান থেকে স্কলারশিপ গ্রহণ করে দেশে ফিরলে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এই উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএন নিউজকে একটি একান- সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। ৩০ মিনিটব্যাপী ইয়ং নাইটের এই অনুষ্ঠানে এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি আলোচনা করেন- তরুণ নেতৃত্ব, ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার, ভিশন ২০২১ সহ বাংলাদেশকে এগিয়েং নিয়ে যাওয়ার নানা সম্ভাবনার দিক সমস্যা নিয়ে চীন, জাপান ছাছাও তিনি ভারত নেপাল ভ্রমণ করেছেন।

সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ক্রীড়, নাট্য এবং অলাভজনক সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি সাদুল্লাপুরের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা চলমানচিত্র প্রকাশক সম্পাদক, গাইবান্ধা ক্রীড়া সংগঠন অনির্বাণ স্পোটিং ক্লাব এবং সাদুল্লাপুরের উল্লেখযোগ্য সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান আলোকিত বাংলা প্রতিষ্ঠাতা

খাদেমুল ইসলাম খুদি ১৯৯৭ সালের গাইবান্ধা সাহিত্য সম্মেলনে স্বরচিত ছড়া প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান লাভ করেন। এছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক নাট্যতত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমান লেবু মাকড়শা অবলম্বনে, মো. আমিনের চিত্রনাট্য পরিচালনায় অন্যরুপ কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মাণ করেছেন স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্র গ্রামের নাম মহানন্দপুর গাইবান্ধা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় আয়োজন করতেন নন্দিত নিয়মিত মাসিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ঝলক
খাদেমুল ইসলাম খুদির এত অল্প বয়সে এত সফলতার পিছনে সুন্দর বক্তৃতা করার ক্ষমতা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। পিতা এম. আতাউর রহমান (বাদশা মিয়ার) মতোই জনগণকে উদ্দীপ্ত করার দারুণ এক সম্মোহনী শক্তি আছে এই তরুণ জননেতার কণ্ঠে। ছোট বেলায় যখন তিনি দেশের সনামধন্য বিদ্যাপীঠ শিবরাম এর ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র তখনই তার উপসি' বক্তৃতার সুনাম সকল শিক্ষক-ছাত্রের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। ইদানিং তিনি স্থানীয় ইসলামী ওয়াজ মাহফিলগুলোতে ইসলামের ওপর আধুনিক যৌক্তিক বক্তব্যের কারণে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ২৫ অক্টোবর এই তরুণ জননেতা গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোডে নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা আলহাজ্ব এম. আতাউর রহমান বাদশা মিয়া মা মোছা. খালেদা বেগম। তাঁর প্রকৃত নাম এস.এম. খাদেমুল ইসলাম ইবনে আতা আশরারে খুদি হলেও খুদি বা খাদেমুল ইসলাম খুদি নামেই তিনি সকলের কাছে পরিচিত। বুদ্ধিদীপ্ত আর চৌকস কর্মকান্ডের জন্য সকলের নজর কাড়েন কিশোর বয়সেই। শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ক্বারি হাবিবুল্লাহ বেলালির অনুষ্ঠানে বিটিভিতে অংশ নেন। ৫ম শ্রেণীতে পান বৃত্তি, জারি গানে অর্জন করেন বিভাগীয় পুরুস্কার।

জন্মসূত্রেই তাঁর ধমনীতে রাজনৈতিক রক্ত প্রবাহিত। বাবা ছিলেন জাতীয় পরিষদের সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, চার থানা মিলে এম.এন.এ। যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় খাদ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী নিযুক্ত হয়েছিলেন। দাদা আলহাজ্ব এম. আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের দীর্ঘ ৪৮ বৎসর পঞ্চায়েত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রপিতামহ এম. আব্দুল কাদের মিয়াও পঞ্চায়েত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন সুদীর্ঘকাল। চাচা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মিয়া এবং বড় ভাই জনপ্রিয় নেতা আমিরুল ইসলাম আল মোজাহিদ মিয়াও দায়িত্ব পালন করেছেন ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে

খাদেমুল ইসলাম খুদি জাসদ কেন্দ্রী কমিটির বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি একসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) কেন্দ্রী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতি গাইবান্ধার সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতি সাদুল্লাপুরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক ব্যবসায়িক পিতার ছেলের মধ্যে এস.এস. খাদেমুল ইসলাম খুদি সর্বকনিষ্ঠ। বড় ভাই আমেরিকা প্রবাসী, আর বাকিরা থাকেন দেশে। মা খালেদা বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মহান পেশার সাথে জড়িত থাকায় খাদেমুল ইসলাম খুদি ছোটবেলার শিক্ষক হবার স্বপ্ন থেকে বি,,বি,এড সম্পন্ন করেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় ২০০২ এর ৩০ জানুয়ারী মারুফি আক্তার খান লিরার সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। একমাত্র ছেলে মাহীম ইবনে আশরারে খুদি। ভালোবাসেন দেশকে, ভালোবাসেন দেশের মানুষকে।  তার প্রিয় উক্তি মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদের লোক ভবিষ্যৎ স্বপ্ন- যত দিন বেঁচে থাকব, মানুষকে ভালোবেসে যেতে চাই।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
এই বিভাগের আরো খবর