• বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ সফর ১৪৪২

৩৩

উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক খরচ মানা হবে না

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২০  

সরকারের যে কোন উন্নয়ন প্রকল্পে ভবিষ্যতে বাড়তি অস্বাভাবিক খরচ থাকলে তা মানা হবে না। প্রকল্পের খরচ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলেই আরও বেশি সতর্ক থাকা এবং এগুলো শোধরানোর জন্য এ বছর থেকেই সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন বলে একমত হয়েছেন সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ ৩০ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর থেকেই নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য আরও সচেতন হয়ে কাজ করবে বলেও বৈঠকে ঐকমত্য হয়। সামনের দিনে আগামী কয়েক মাসেই এর বাস্তবায়ন দেখা যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে নানামুখী আলোচনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ৩০ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের যেসব কর্মকর্তা প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেন, তাদের পর্যবেক্ষণ, কী কী ঘাটতি লক্ষ্য করেছেন। সেসব তুলে ধরেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যারা প্রকল্প তৈরি করেন, বৈঠকে তাদের শিক্ষণীয় ব্যাপারগুলো তুলে ধরেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখ করেন যে, কোথায় কীভাবে আরও ভাল করা যায়।

বৈঠকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সভায় বিভিন্ন প্রকল্পেন যেন আর বাড়তি খরচ ধরা না হয় এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি কেমন সেটি নিয়েও আলোচনা হয়।

সচিবরা যেন সবকিছু দেখে দেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আবুল কালাম আজাদ স্যার একটি গাইডলাইন বা অবজারবেশন দিয়েছেন যেন সবাই সেটি মেনে চলে। পানি সম্পদ এবং গণপূর্তের কিছু অগ্রগতি কম তারা যেটি বলেছে, চতুর্থ কিস্তি বরাদ্দ না পাওয়াতে কম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ও তাদের মতামত দিয়েছে। আর যেটা হয়েছে দাম টাম যেন সবাই ভবিষ্যতে আরও দেখে দেয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

সভা শেষে দুপুরে অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের আলোচনা অংশ তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, করোনার জন্য নয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় যেকোন পরিস্থিতিতে আমাদের পরিহার করতে হবে। এটা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় আমি শেয়ার করেছি। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি আমাদের এ সমন্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এগুলো গ্রহণ করবেন না।

আমাদের কাছ থেকে শোনেন, তা নয়। তার (প্রধানমন্ত্রীর) নিজের নজরেও আসছে। বিশেষ প্রকল্পের রিভিশন নিয়ে তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করেন, এত রিভিশন কেন করেন। প্রথমে বললেন দু-তিন বছরের প্রকল্প। তারপর এক বছরের মাথায় এসে বলেন, চার বছর লাগবে। আরেক বছর পর আবার এসে বললেন ব্যয় বাড়াতে হবে। এগুলো তিনি মনে করেন যে, শৃঙ্খলাবিরোধী। এটা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনায় বাসায় বসে জুম মিটিং করলেন কেন? আপ্যায়ন ব্যয় করা লাগবে? প্রকল্পের আওতায় আপ্যায়ন ব্যয় আছে। তার মানে এই নয় যে অযৌক্তিকভাবে ব্যয় করতে হবে।

প্রকল্পের আওতায় অযৌক্তিক আপ্যায়ন ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। তিনি বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) রিপোর্ট করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই কথা দিয়েছেন, তাদের যেসব সুযোগ-সুবিধা, আইনকানুন আছে, সেগুলো তারা প্রয়োগ করবেন। সব অর্থ সরকারের নয়, জনগণের। জনগণের অর্থ যদি অপচয় হয় বা বেশি করি- এটা গ্রহণযোগ্য নয়। করোনা হোক বা না হোক, কোন সময়ই জনগণের অর্থ নিয়ে নয় ছয় করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করি যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি আছে। ভুল হোক বা হিউম্যান এরর হোক, হিউম্যান এরর হিসেবে নেব। কিন্তু রিপিটেড হিউম্যান এরর তো গ্রহণযোগ্য নয়।

সবাই মিলে আলোচনা করেছি, কীভাবে এটাকে উতরে আসা যায়, এ বিষয়ে আমরা সবাই মিলে একমত হয়েছি, আমরা যার যার অবস্থান থেকে এটা মোকাবেলা করব। এ বছর থেকে কাজ শুরু করলাম, নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য আমরা আরও সচেতন হবো। পরিকল্পনা কমিশন আরও সচেতন হবে। যারা প্রকল্প তৈরি করবে, তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করবেন। যাতে এ ধরনের কাজ আগামীতে যেন আর না হয়।

তিনি বলেন, একজন লোকের কাছে চারটা, পাঁচটা, ছয়টা প্রকল্প। ১০টা প্রকল্পও পাওয়া গেছে। এটা আমাদের সার্কুলারবিরোধী, বিধানবিরোধী। তারপরও করে যাচ্ছি এটা। সুনামগঞ্জের প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক ঢাকায়। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আগেও আলোচনা করেছি।

আবার আলোচনা করছি। বারবার করে এটাকে আমরা শোধরাবার চেষ্টা করছি। শোধরানো দরকার। এ সমন্ধে কোন সন্দেহ নেই। আমরা সবাই একমত। আমরা একমত হয়েছি, এসব বিষয় আর মেনে নেয়া যাবে না। এগুলো শোধরানোর জন্য আমরা সবাই আবার একসঙ্গে কাজ করব।

মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়গুলো আজও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সচিবরা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তারা টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব কী কী শাস্তির বিধান আছে, সেটা উল্লেখ করেছেন।

জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে তিনি আবার এটাকে তুলে ধরেছেন বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিকল্পনা কমিশনের যারা সব প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেন, তাদের অবজারভেশনে তারা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করেন, সেগুলো তারা পয়েন্ট আউট করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তারা যেহেতু সিনিয়র, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখ করেছেন, কোথায় কীভাবে আরও ভাল করা যায়। দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমএ মান্নান বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণ আমাদের ওপর নজর রাখছে।

আমাদের কাজ দৃশ্যমান। আমরা অবকাঠামো তৈরি করছি। মানুষ অনেক সচেতন। আমাদের গতিবিধি, আচার-আচরণ দেখছে। জনগণের সম্পদ আমরা কীভাবে ব্যবহার করছি, তা তারা গভীর নজরে রেখেছে। তাই টাকার ব্যবহার, সময়োপযোগিতা ও পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর