• সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৪ ১৪২৭

  • || ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আদার ভেষজ গুন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আদা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২০  

আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষ মশলা জাতীয় খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করে। এটির বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে এছাড়াও রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর উপকরণ  হিসেবে আদার জুড়ি নেই। 

আদার ভেষজ ব্যাবহারঃ 

এটির বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপাজ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, ব্যথানাশক সহ বিভিন্ন প্রকার ব্যথায় এটি উপকারী। অতিরিক্ত ওজন ঝরাতেও এটি সাহায্য করে। এ ছাড়াও নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়।

বমি বমি ভাবঃ

আদা কুচি করে চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করুন। বমি বমি ভাব কমে যাবে।

অতিরিক্ত অম্বলের কারনে বুকজ্বলাঃ 

অম্বল তৈরী হয় এমন খাবার বা বেশি ভাজাপোড়া খাবারের কারণে বুকজ্বলার সমস্যা সমাধানে ২০ গ্রাম মত আদা ছেঁচে ৪০০ মি.লি পানির সাথে ফুটিয়ে ছেঁকে পান করুন বুক জ্বালা কমে যাবে।

ব্যথানাশক হিসাবেঃ

মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যথানাশক হিসাবে এটির রস সরাসরি উক্ত স্থানে লাগালে দ্রুত বেথা উপশম হয়।

পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে।

হজমের সমস্যা সমাধান এবং পেটে ব্যথা দূর করেঃ

এটি হজমে সমস্যা সমাধান করে এবং পেটে ব্যথা দূর করে। রোজ সকালে ১ কাপ আদা চা পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমেঃ

প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

আদা ক্যানসাররোধীঃ

এটি একটি ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

কাঁচা আদা  অনেক উপকারি। তবে এটি খেতে হলে অবশ্যই এটি খাওয়ার নিয়ম জানতে হবে। রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে এটি দারুণ কার্যকর। এটির মধ্যে ডাইজেসটিভ ট্রাক্টের প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। কাশি এবং মাইগ্রেন এর সমস্যার এটি কার্যকরি। তবে যারা রোগা বা চিকন হতে চান তাঁদের জন্য আদা  বিশেষ উপকারী হলেও, যাঁরা ওজন বাড়াতে চায় তাঁদের অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

ত্বকের যত্নে কাঁচা আদা

১. বয়সের ছাপ কমায়

আমাদের কাজের চাপ, চিন্তা, ব্যস্ততা এইসবের জন্য অল্পবয়সেই মুখে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে থাকে।এক্ষেত্রে আপনি কাঁচা আদা ব্যবহার করতে  পারেন। এটির মধ্যে থাকা অ্যান্টি-এজিং উপাদান আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান টক্সিন বের করে দেয়। মুখে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বাড়ায়।

গ্রহণ পদ্ধতি

প্রতিদিন  সকালে খানিক কাঁচা আদা  মুখে নিয়ে চিবিয়ে নিন। প্রথম দিকে সমস্যা হবে। কিন্তু অভ্যেস করলে উপকার পাবেনই।

২. শীতে ত্বকের কুঁচকে যাওয়া আটকায়

শীতকালে আমাদের ত্বক সবারই কম-বেশী কুঁচকে যায়। এটি কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

গ্রহণ পদ্ধতি

গরম জলে ৪ টেবিল চামচ মতো এটির কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার এই জল ঠান্ডা করে খেতে থাকুন। দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন।

৩. শ্বেতী রোগ কমাতে

শ্বেতী রোগ কমাতে এটির কোন জুড়ি নেই।

গ্রহণ পদ্ধতি

কাঁচা আদা  মুখে ফেলে রাখুন শুধু। ব্যাস আর কিছুই করতে হবে না। এছাড়া আপনারা আদা বাটাও মাখিয়ে রাখতে পারেন ওই শ্বেতীর জায়গায়। কয়েক সপ্তাহেই উপকার পাবেন।

৪. পোড়া দাগ দূর করে

যে কোন পোড়া দাগ দূর করতে এটির ভূমিকা অনন্য।

গ্রহণ পদ্ধতি

কাঁচা আদার রস রোজ  খালি পেটে খাবেন । এছাড়া কাঁচা আদা আপনি পোড়া জায়গায় ঘষতে পারেন। ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ করে দেখুন আপনার পোড়া দাগ থাকবেনা।

৫. ব্রণ দূর করতে

ব্রণ মূলত হয় ব্যাকটেরিয়া থেকে। এটির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

গ্রহণ পদ্ধতি

এটির রস নিয়মিত খালি পেটে খেতে থাকুন। আর সঙ্গে আদার পাতলা একটা টুকরো হাল্কা করে ব্রণের জায়গায় ঘষতে থাকুন ব্রণের জায়গায়। কয়েক সপ্তাহে ফল পাবেন।

৬. চুল বাড়ায় 

এটি স্ক্যাল্পে রক্তের সঞ্চালন বাড়ায়। হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। তাই চুলের বৃদ্ধি খুব ভালো হয়।

উপাদান

৪ চামচ কাঁচা আদা বাটা, ৭ ফোঁটা জোজোবা অয়েল।

ব্যবহার

দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে রাখুন ৩০ মিনিট। গোটা স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন করুন।

৭. চুল পড়া কমায়

সাধারণ সমস্যা চুল পড়া। এর থেকে এটির রস সুন্দরভাবে মুক্তি দেয়।

উপাদান

পরিমাণ মতো আদার রস ।

ব্যবহার

তুলো দিয়ে আদার রস স্ক্যাল্পে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। রোজ রাতে ব্যবহার করুন। দু’ সপ্তাহেই উপকার পাবেন।

৮. খুশকি দূর করে

খুশকি দূর করতে পারে এটির রস।

উপাদান

৪ চামচ আদার রস, ২ চামচ পাতিলেবুর রস।

ব্যবহার

দুটো উপাদান  মিশিয়ে চুলে তুলো দিয়ে লাগান। ৩০ মিনিটের মতো রাখুন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা