• রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৭

  • || ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে’

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২০  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে দলের হোক, যে কেউ হোক- অপরাধী অপরাধীই। কাজেই অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সমাজটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ১১৬, ১১৭ এবং ১১৮তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে শাহবাগ বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিসিএস প্রশাসন একাডেমি প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বদরুন নেছা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১১৬, ১১৭ ও ১১৮তম কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে তিনজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অংশগ্রহণকারী মোট ১১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী সবাই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া তিনজন প্রশিক্ষণার্থী রেক্টর অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। এরা হলেন- জিসান বিন মাজেদ, হাফিজুল হক এবং তারিকুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী রেক্টর অ্যাওয়ার্ডস তুলে দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আন্দোলনের বিভিন্ন পটভূমিও তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং আমাদের যে রিসার্চ সেল আছে- আমরা সবসময় বাংলাদেশকে কীভাবে জাতির পিতার আদর্শে গড়ে তুলব সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের দীর্ঘ ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি। সরকার গঠনের পর থেকে আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিই। এছাড়া পরবর্তী সময়ে টানা মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশটাকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গড়ে তুলতে চাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ; যে বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষ সম্মানের সাথে বসবাস করবে। আমরা চাই, সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে চলবে। কারণ জাতির পিতা বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। আমরা কিন্তু সর্বত্র চেষ্টা করেছি। এবারও আমরা বড় বাজেট দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি, কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজেরা চলব।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে খাদ্যাভাবের কথা চিন্তা করে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী যেকোনো সময় মহাদুর্যোগ চলে আসতে পারে। সেই সময় বাংলাদেশের মানুষে যেন খাদ্যে কষ্ট না পায়। আমাদের জমি সীমিত, কিন্তু আমরা রিসার্চ করে আমাদের উৎপাদন বাড়িয়েছি। এটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলব। আর সেটার জন্য কিন্তু আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। হঠাৎ করেই কতকগুলো সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন: ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং সৃষ্টি, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি। এগুলো বিরুদ্ধে আপনাদের আরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেখানে কারও মুখ চিনে নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। কিন্তু আরও আমরা উন্নতি করতে চাই। এই দেশটাকে আমরা গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’

শেখ হাসিনা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং সারাদেশে যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া করোনার মধ্যেই সরকার যে প্রকল্পগুলো নিচ্ছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে সেগুলোও যাতে ভালো ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখার নির্দেশ দেন।

প্রশিক্ষণার্থী সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, ‘আপনারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের জন্য কাজ করবেন। এই মনোভাব নিয়েই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদের জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। স্থবির সারাবিশ্ব। অনেক মানুষকে আমরা হারিয়েছি। এটা যেন বিস্তার লাভ করতে না পারে সেজন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। কারণ দ্বিতীয় যে ঢেউটা আসছে, সেটা কী পর্যায়ে যাবে এখনও আমরা জানি না। অনেক দেশ অলরেডি লকডাউন করে ফেলেছে, অনেকে কারফিউ দিচ্ছে। আমরা এখনও সহনশীল অবস্থায় আছি। কিন্তু আমাদেরকে খুব সাবধানে চলতে হবে।’ করোনার ভ্যাকসিন অগ্রিম বুকিং দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা